বাংলার মাটিতে ছড়িয়ে আছে অগণিত প্রাচীন মন্দির—আজ তাদের অনেকেই অবহেলায় জীর্ণ, দীর্ণ, প্রায় ভগ্নপ্রায়। ইতিহাসের পাতায় নাম ওঠা কয়েকটি মন্দির হয়তো সরকারি খাতায়কলমে সামান্য যত্ন পায়, কিন্তু বাস্তব সত্য হলো—বেশিরভাগ মন্দির আজ কার্যত পরিত্যক্ত।


এই মন্দিরগুলোর মধ্যে অনেকের ইতিহাস শত শত বছরের পুরোনো, আবার অনেক মন্দির গ্রামদেবতা বা কুলদেবতার—যাদের সঙ্গে গ্রামের মানুষের আত্মিক সম্পর্ক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহমান।


এক সময় এই মন্দিরকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল গ্রামজীবনের প্রাণকেন্দ্র।


এখানেই চলত টোল ও শিক্ষা ব্যবস্থা, শরীরচর্চা ও কসরতের অনুশীলন, কবিগান ও নানা লোকনৃত্য-গীতের প্রশিক্ষণ।


এখানেই গ্রামের সলাপরমর্শ, বিরোধ মীমাংসা হতো।


পুজো উপলক্ষে সামগ্রী কেনাবেচার মাধ্যমে গ্রামে আসত আর্থিক সঞ্চালন।


আজ মন্দিরের সঙ্গে সঙ্গে সেই সামগ্রিক সামাজিক ব্যবস্থাও প্রায় নিশ্চিহ্ন।


তবুও সব কিছু হারিয়ে যায়নি।
আজও দেখা যায়—কোথাও ভগ্ন মন্দিরের ধ্বংসস্তূপের নিচে, কোথাও প্লাস্টিকের শিটের তলায় দেবতা বিরাজমান, চারপাশে আগাছা আর ভাঙা ইট—তবুও গ্রামের মানুষ নিয়মিত পুজো দেন।


কারণ ভক্তির কোনো ভাঙন হয় না। দেবালয় ভাঙতে পারে, কিন্তু বিশ্বাস ভাঙে না।


এই জায়গাতেই আমাদের দায়বদ্ধতা।
ভগবানের দেবালয়কে পুনরুদ্ধার করা, ভক্তের ন্যূনতম সুব্যবস্থা করা—এটা কেবল ধর্মীয় কাজ নয়, এটা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দায়িত্ব।


আমরা জানি, অল্প কয়েকজনের প্রচেষ্টায় বাংলার সব মন্দির একসঙ্গে পুনর্নির্মাণ সম্ভব নয়।
কিন্তু কোথাও না কোথাও তো শুরু হতেই হবে।


আমাদের আগেও অনেকে মন্দির সংস্কারের কাজ করেছেন, আজও কেউ কেউ করে চলেছেন—তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, একসাথে কাজ করাই আমাদের পথ।


বাংলার পোড়ামাটির (টেরাকোটা) মন্দির হোক বা চুন-সুরকির স্থাপত্য—পুরনো রীতিকে সম্মান রেখেই, একই উপাদানে সংরক্ষণ করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।


কালভৈরব ট্রাস্ট ইতিমধ্যেই বাংলার কিছু নির্বাচিত মন্দির সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে।


কিন্তু এই কাজ আপনার সহযোগিতা ছাড়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।


আপনি যদি মনে করেন—
এই কাজ থামা উচিত নয়,
এই ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য,
তাহলে আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোন।


আপনি চাইলে আপনার গ্রামের বা জেলার কোনো একটি মন্দিরের পূর্ণ বা আংশিক দায়িত্ব নিতে পারেন,
অথবা আমাদের তালিকাভুক্ত মন্দিরগুলোর মধ্য থেকে যে কোনো একটির সংরক্ষণ কাজে অংশ নিতে পারেন।


চলুন, ভাঙা ইটের ভেতর থেকে ইতিহাসকে আবার দাঁড় করাই।
ভক্তির স্থানের সঙ্গে ফিরে আসুক বাংলার আত্মা।